বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক শোকগাথা দিন ১৬ মার্চ। ২০০৭ সালের এই দিনে হঠাৎ এক দমকা খবর। তাতে স্তব্ধ দেশের ক্রীড়াঙ্গন। এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে যান তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটার মানজারুল ইসলাম রানা ও সাজ্জাদুল হাসান সেতু।
এই দুই ক্রিকেটারকে হারিয়ে ফেলার আজ ১৪ বছর হতে চলল। প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই এই দিনে বিদায় নিতে হয়েছিল রানা-সেতুকে। সেদিনের সেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা না ঘটলে রানা কি আজ থাকতে পারতেন জাতীয় দলে ?
ওপারে থেকেও হয়তো বহুবার রানা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ছায়াসঙ্গী হয়ে দলকে জিতিয়েছেন। সে মারা যাওয়ার পরদিনই বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। বুকে পাথর চেপে আর ভারতের বিপক্ষে সেদিন রানাকে নিয়েই হয়তো মাঠে নেমেছিলেন মাশরাফি-হাবিবুল বাশার সুমনরা। দারুণ এক জয়ও পেয়েছিলো বাংলাদেশ।
মানজারুল ইসলাম রানা এদেশের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন। মারা যাওয়ার আগে লাল সবুজ জার্সিতে ৬টি টেস্ট আর ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলেন। রানা না থাকলেও দেশের ক্রিকেট কিন্তু আজ রানার স্বপ্ন দেখা পথেই। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশকে আজ বিশ্ব ক্রিকেট সমীহ করে।
১৬ মার্চ বাংলাদেশের ক্রিকেট আলাদা করেই মনেই রাখে। মাঠের ক্রিকেটে রানাই যেন ফিরে আসেন এই দিন দলের ছায়া খেলোয়াড় হয়ে। অদৃশ্য থেকেই অনুপ্রেরণা আর উৎসাহ যোগান সতীর্থ ক্রিকেটারদের।
১৯৮৪ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনায় জন্মগ্রহণ করা রানার বাংলাদেশ দলে টেস্ট অভিষেক ঘটে ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তার আগেই হয় ওয়ানডে অভিষেক। দেশের হয়ে ৬টি টেস্ট আর ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা খুলনার ছেলে রানা ও ৫০টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা সেতু আজও আমাদের উপলব্ধিতে।